আসসালামু আলাইকুম। অ্যান্ড্রয়েড মার্কেটে HTC নামটা অনেক দীর্ঘ একটা সময়ের জন্য হারিয়ে যাওয়া একটা নাম। তবে অ্যান্ড্রয়েডের ইতিহাসে HTC কিন্তু খুব বিশেষ একটা জায়গায় উচ্চারণ হবে, কারণ প্রথম অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনটাই ছিলো HTC Dream। তো অনেকদিন পর উৎপাদনকারী ও ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে Salextra-কে সাথে নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসছে HTC। এবং এই প্রত্যাবর্তন হচ্ছে HTC Wildfire E7 Life মডেলটির সাথে।
Some brands follow trends.
Others create them.
hTC isn’t making a comeback — it’s starting a new chapter.
ওপরের কথাগুলো HTC Bangladesh ফেসবুক পেজ থেকে নেয়া। গত দেড় মাস ধরেই আপকামিং ফোনের টিজার দিয়ে যাচ্ছিলো তারা। তবে আসলেই কি HTC Wildfire E7 Life ফোনটাতে তেমন কোন অভিনবত্ব থাকছে? সত্যি বলতে, না। একেবারেই না। “Designed To Lead. Again.” ট্যাগলাইনের সাথে ১৩ হাজার টাকায় খুবই টিপিক্যাল একটি স্মার্টফোন HTC Wildfire E7 Life।

আমার বিগত যেকোন ফোন নিয়ে লেখাগুলোতেই বারবার যেমনটা বলে আসছি, এখনকার মার্কেটের ফোনগুলো সবই কমবেশি প্রায় একইরকম। বিশেষ করে বাজেট ফোনগুলোতে এটা অনেক বেশি দৃশ্যমান। ছোটখাট কিছু কমবেশি ছাড়া তফাৎ করার মত তেমন কিছু নেই।
এই লেখাটা শুধু ফোনটার সামগ্রিক ওভারভিউ তুলে ধরা। ফোনটি আমি নিজে ব্যবহার করিনি। এছাড়া স্পেকের ক্ষেত্রে খুঁটিনাটি ডিটেইলগুলো না পাওয়াতে আমাদের আরো কিছুটা সারফেস লেভেলে থাকতে হবে।
HTC একটা জায়গাতে অবশ্য ভালো লেগেছে- ডিজাইন। যদিও ক্যামেরা মডিউলের ক্ষেত্রে অকারণ তিন ক্যামেরার মত জায়গা নেয়াটা আমার পছন্দ না, তবে অন্ততপক্ষে আইফোন-ইন্সপায়ার্ড ডিজাইনের দিকে তারা যায়নি এটুকুই আপাতত স্বস্তি। পাওয়ার বাটনের কনট্রাস্টেড কালারসহ সামগ্রিকভাবে একটা বোল্ডনেস আছে ফোনটির ডিজাইনে।
ডিসপ্লে থাকছে 6.745″ HD+ 120 Hz রিফ্রেশ রেটের একটি প্রিজিউমেবলি IPS প্যানেল। ডিসপ্লের সর্বোচ্চ (HBM – High Brightness Mode) ব্রাইটনেস থাকছে 480 nits, যার কারণে সানলাইটে ভিজিবিলিটি তত ভালো হবে না। এবং ছবিগুলো থেকে বেজেল বর্তমানের নিরিখে বেশ চওড়ার দিকে। তাছাড়া এটি একটি নচ ডিসপ্লে। সব মিলিয়ে ডিসপ্লের দিকে বাজেটের প্রতিদ্বন্দ্বী অনেকের থেকে HTC পিছিয়ে থাকছে।
Unisoc T615 চিপসেট থাকছে ফোনটিতে। যার অক্টাকোর সিপিইউ তৈরি হয়েছে ২টি 1.8 GHz A75 ও ৬টি 1.6 GHz A55 চিপসেট নিয়ে এবং Mali G57 MP1 জিপিইউ থাকছে এখানে। পারফর্মেন্সের দিক থেকে বাজেট ফোনে কিছুটা মানিয়ে চলার মানসিকতা তো রাখতেই হবে। 6 GB র্যাম ও 128 GB স্টোরেজের সাথে এসেছে ডিভাইসটি। ডুয়াল সিম কার্ড স্লটের সাথে ডেডিকেটেড মাইক্রোএসডি কার্ড স্লট আছে।
ক্যামেরার বেলায় 50 MP মেইন ক্যামেরা আর 8 MP সেফলি ক্যামেরা থাকছে। রেয়ারে সেকেন্ডারি ক্যামেরাটি 0.08 MP-এর mandatory lens for the sake of fitting into society।
5000 mAh ব্যাটারী। 10 W চার্জার। এটা ফোনটার এই বাজেটে প্রাক্টিকাল সবচেয়ে বড় ডিজএডভান্টেজ হয়ে থাকবে। ফুল চার্জ হতে প্রায় তিন ঘন্টা সময় দরকার হবে। অনেক বেশি দরকার নেই, তবে অন্তত 15 W বা 18 W সাপোর্ট থাকাটা উচিৎ ছিলো।
সেন্সরের মধ্যে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর, গ্রাভিটি সেন্সর, প্রক্সিমিটি সেন্সর ও মোটর সেন্সরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মোটর সেন্সর কী এবিষয়ে জানা নেই আমার। জাইরোস্কোপ বা কম্পাস সেন্সরের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়নি। ফোনটা অবশ্য লেটেস্ট Android 16-এর সাথে এসেছে। এই বাজেটে এখনো Android 16 আমরা খুব একটা দেখছি না। তো এটা একটা ভালো দিক।
তো এই ছিলো HTC Wildfire E7 Life এর একটি সামগ্রিক ওভারভিউ। ঐতিহাসিক একটা ব্র্যান্ডের রিটার্ন হিসেবে চিন্তা করতে গেলে খুবই underwhelming একটা রিটার্ন। তো Salextra বা HTC যেই এখানে ম্যানেজমেন্টের মূল দায়িত্বে থাকুক না কেন, যদি সত্যিই স্রোতে গা ভাসানো গড়পড়তাদের ভিড়ে নতুন একটি অধ্যায় শুরুর মন্ত্রে তারা বিশ্বাসী হয়, তবে তাদের অন্যদের দিকে না তাকিয়ে খুঁজে বের করতে হবে মানুষের কাছে HTC-র পরিচয় কোথায়।
ছবি ও তথ্য: HTC Bangladesh (ফেসবুক পেজ) | Salextra





good post
কৃতজ্ঞতা