আসসালামু আলাইকুম। লেখালেখিতে ফিরে আসার চেষ্টা করছি। এই লেখাটা তার একটা অংশ। এখন সময় ১২:১৬। ঠিক ১২:৩৫ মিনিটে এই লেখাটা প্রকাশ হবে ইন শা আল্লাহ। এই সময়ের মধ্যে যা লেখা যায়। কোন সাজানো-গোছানো লেখা হবে না এটা।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপ, নিয়ন আলাপে হিমেল দাস একটা ভিডিও শেয়ার করলো, The Worst Firefox Update Ever। ভিডিওটাতে ফায়ারফক্সের রিসেন্ট দুটো কনসার্নিং আপডেট উঠে এসেছে- ফায়ারফক্সের নতুন প্রকাশিত টার্মস অফ সার্ভিসের কিছু অংশ এবং ওয়েবসাইট থেকে ‘we don’t sell access to your data’ কথাটা সরিয়ে নেয়া। ভিডিওটা দেখে নিতে পারেন।
ক্রোম বা ক্রোমিয়াম বেজড ব্রাউজারগুলো থেকে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ফায়ারফক্সের কম্প্যাটিবিলিটি ইস্যু থাকলেও যে কারণে শতকরা ৩ জনের মত মানুষ এখনো ফায়ারফক্স ছাড়েনি তার বড় একটা কারণ প্রাইভেসি। সেই জায়গা থেকে ফায়ারফক্স প্রশ্নবিদ্ধ জায়গায় যেতে থাকলে পুরো বিষয়টাই কেমন যেন হয়ে যায়। বাই দা ওয়ে, ফায়ারফক্সে প্রাইভেসি কনসার্ন একদম নতুন না- ফায়ারফক্সে আগে থেকেই কিছু কিছু টেলিমেট্রি, স্পন্সর এগুলো আছে।
তবে ফায়ারফক্সকে পুরোপুরি অগ্রাহ্য করার আরেকটা বড় লিমিটেশন আছে। ক্রোম, মাইক্রোসফট এজ, ব্রেভ, অপেরা সবগুলো জনপ্রিয় ব্রাউজার মোটাদাগে ক্রোমেরই বিভিন্ন রূপ- অর্থাৎ একই ইঞ্জিন ব্যবহার করে। এক্ষেত্রে গুগলের মনোপোলির প্রধানতম প্রতিপক্ষ ফায়ারফক্স। গুগল রিসেন্টলি এড ব্লকার লিমিটেড করে দেয়ার মত কিছু মুভ নিয়েছে। এরকম বিষয়গুলোতে একটা ব্যালেন্স রক্ষার জন্য শক্ত প্রতিপক্ষ থাকাটা খুব প্রয়োজন। এবং ফায়ারফক্স থেকে অনেকে এখনো সরে না আসার এটা সবচেয়ে বড় কারণগুলোর আরেকটা।
ক্রোমভিত্তিক বিভিন্ন ব্রাউজার যেমন আছে, তেমনি ফায়ারফক্স ভিত্তিক বিভিন্ন ব্রাউজার আছে। যেমন LibreWolf সবচেয়ে জনপ্রিয় উদাহরণ। স্মার্টফোনে Fennec ও Mull ব্রাউজার আছে। এই ব্রাউজারগুলো মূলত ফায়ারফক্স-ই, টেলিমেট্রিসহ প্রাইভেসির দিক দিয়ে আরো রিলায়েবল করা। তবে ফায়ারফক্সভিত্তিক খুব ইন্টারেস্টিং কোন ব্রাউজার ততটা চোখে পড়েনি। ব্রেভ যেমন ক্রোম বেজড হয়েও অনেক ভিন্ন এক্সপ্রেরিয়েন্স দেয়, এরকম নতুনত্ব নিয়ে আসা ফায়ারফক্সভিত্তিক ব্রাউজার আগে সামনে আসেনি আমার।
তবে রিসেন্টলি Zen Browser এর সন্ধান পেলাম। এটা ফায়ারফক্সভিত্তিক, তবে তারা অনেক কাজ করেছে ব্রাউজিং এক্সপ্রেরিয়েন্সকে আরো প্রোডাক্টিভ করার জন্য। যেমন ওয়ার্কস্পেস এবং ওয়ার্কস্পেসের সাথে ফায়ারফক্সের কন্টেইনার ট্যাব ইন্টিগ্রেশন একটা নতুন মাত্রা দেয় ব্রাউজিংয়ে। পাশাপাশি স্প্লিট ভিউ, সাইডবারসহ অনেক ইউজফুল ফিচার ইন্টিগ্রেট করা হয়েছে। ডিজাইনে নতুনত্ব এসেছে। তাদের পুরো ডিজাইন ভার্টিকাল ট্যাব বেজড। পুরো ব্যাপারে নতুনত্ব এবং প্রোডাক্টিভিটির ছোঁয়া আছে। এখনো বিটা স্টেজে অবশ্য। হয়ত সামনে এতে সুইচ করতেও পারি, তবে সুইচ করা আসলে কঠিন- আমি বলা যায় কম্পিউটিংয়ের শুরু থেকে বেশিরভাগ সময় ফায়ারফক্স-ই ব্যবহার করে আসছি। Zen Browser

আরেকটা ব্রাউজার চোখে পড়লো, Ladybird। এটা ফায়ারফক্স বা ক্রোমিয়াম কোনটাই বেজড না, স্বাধীনভাবে নতুন ব্রাউজার ইঞ্জিন ডেভেলোপ করছে তারা। ব্রাউজারের মার্কেট দেখলে স্পষ্টত নতুন প্রতিযোগী প্রয়োজন এরকম। তবে Ladybird এখনো ডেভেলোপমেন্ট স্টেজে। আলফা রিলিজ হয়নি। আগামী বছরের শুরুতে আলফা রিলিজের পরিকল্পনা আছে তাদের। কাজেই কতদূর যেতে পারে এটা দেখার বিষয়।
শেষ করছি। এখন সময় ১২:৩৯।




