আসসালামু আলাইকুম। আশা করছি সবাই ভালো আছেন। গত কিছুদিন ধরে চেষ্টা করছিলাম লেখালেখিতে নিয়মিত হতে। কিন্তু যেটা ফিল করছি, এখন আসলে বিষয়টা অনেক কঠিন হয়ে গেছে অনেকগুলো কারণে। এবং তার ঠিক পুরোটা আমার নিজের কারণে না।
একটা বড় কারণ হলো বাংলা টেকনোলজি কমিউনিটিতে যে পরিবর্তন এসেছে। আমার লেখালেখির শুরু টেকটিউনস থেকে, সেইসাথে টিউনারপেজ, পিসিহেল্পলাইনবিডির মত ব্লগগুলো। সেগুলো অনেক আগেই হারিয়ে গেছে। এবং মানসম্মত ফেসবুক গ্রুপ যেগুলোতে যুক্ত ছিলাম- এটিসি কিংবা টেকভার্সের- সেগুলোও একটিভিটি হারিয়েছে বা কার্যত বন্ধ। কাজেই লিনাক্সের কমিউনিটির বাইরে টেক কমিউনিটি থেকে অনেকটা ডিটাচড হয়ে গেছি বলা যায়।
দ্বিতীয়ত- লেখার মত আমার আগ্রহ যে জায়গাগুলোতে- সেগুলো নিয়ে একরকম লেখা হয়ে গেছে। যেমন ৮০০০ শব্দে লিনাক্স পরিচিতি, ডিজাইন করা নিয়ে বিস্তারিত ধারণা ও গাইডলাইন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আদ্যোপান্ত এরকম বিভিন্ন লেখাগুলোতে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে আমার দিক থেকে যেটুকু লেখার ছিলো প্রায় চলে এসেছে। কাজেই নতুন কী লিখবো এটা খুঁজে পাওয়াও একটু কঠিন।
এখন প্রযুক্তির জগতে টেকনিকালি প্রতি মুহুর্তে নতুন কিছু হচ্ছে। নতুন বিভিন্ন ডেভেলোপমেন্ট হচ্ছে, নতুন এআই মডেল আসছে, ডিভাইস আসছে। কাজেই লেখার কিছু খুঁজে না পাওয়াটা একটু অদ্ভুত শোনাতে পারে। কিন্তু সত্যি বলতে আমার মনে হয় আমরা এখন যে জায়গাটাতে আছি আর ডেভেলোপমেন্ট যেভাবে হচ্ছে, তাতে আগ্রহজনক কিছু খুঁজে পাওয়াটা মুশকিল।
মানুষের ভোগের একটা সীমা আছে। তার বেশি তাকে দেয়া হলেও সেটা নেয়ার ক্ষমতা তার নেই। যেমন- আমি মোবাইলের জায়গা থেকে উদাহরণ দিই, যেহেতু এটা আমার নিজের জন্য এবং পাঠকদের জন্য অনুধাবন করা সহজ। 240p (QVGA) ডিসপ্লে আর 720p (HD) ডিসপ্লের তফাৎ করা মানুষের জন্য সহজ। কিন্তু মোবাইল স্ক্রিনে FHD, 2K, 4K, 8K এগুলোর মধ্যে তফাৎ করা আসলে মানুষের পক্ষে খুব কঠিন, আর যদি সম্ভবও হয়- অন্তত সেটা বিশেষ কোন বাড়তি সুবিধা এনে দেয় না। একইভাবে 30 Hz ও 60 Hz রিফ্রেশ রেটের তফাৎ মানুষের পক্ষে করা সম্ভব। কিন্তু যখন 120 Hz, 144 Hz, 240 Hz-এ চলে যায় প্রযুক্তি- এই নতুনত্বগুলোতে শুধু কাগজে-কলমেই যায় আসে- বাস্তবে ফারাক যৎসামান্য। একইভাবে ৪ ঘন্টার পরিবর্তে ৩০ মিনিটে মোবাইল চার্জ হচ্ছে- এটা আকর্ষণীয়। কিন্তু ৩০ মিনিটের পরিবর্তে ১০ মিনিটে নামিয়ে আনাতে আসলে তেমন কিছু আর যায় আসে না। কারণ দুইদিনের মধ্যে চার্জ করার জন্য ৩০টা মিনিট বের করে নেয়া খুব কঠিন না। তো এখনকার প্রযুক্তির উন্নতিগুলো আমার কাছে এরকম মনে হয়। কাগজে-কলমে দেখলে বা তার পেছনে কত পরিশ্রম আছে চিন্তা করলে জিনিসগুলো বিস্ময়কর- কিন্তু কাজের মোটেও না।
সর্বশেষ নতুন যে প্রযুক্তি দেখেছিলাম- এবং সত্যিই সেটা হিউজ একটা কিছু ছিলো- তা ছিলো AI Chatbot- সোজা বাংলায় ChatGPT। কিন্তু ঘটনার বাকিটা আমরা জানি, সব জায়গায় AI আর AI জেনারেটেড জিনিসপাতি দেখতে দেখতে ক্লান্ত আমি ইতোমধ্যে- এই অবস্থায় AI নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করতে বা নতুন কোন AI বেঞ্চমার্কে আগেরগুলো থেকে ১% ভালো করেছে এসব নিয়ে লেখার আগ্রহও খুব একটা কাজ করে না বলাই বাহুল্য। যদিও কয়েকদিন আগেই লিখেছি- জনপ্রিয় AI-গুলো গল্প লেখাতে কেমন এই বিষয়ে। দেখতে পারেন, AI এর অনেক আলোচনার ভিড়ে এই বিষয় নিয়ে আলাদাভাবে তেমন কিছু চোখে পড়েনি আমার।
আমার কাছে যেটা মনে হয় এখন কেন যেন নতুন কিছু বা ভিন্ন কিছু করার আগ্রহটা কারো নেই। মোবাইলের কথা বললে অ্যাপল যেটা করে সবাই- অন্তত তুলনামূলক ছোট ব্র্যান্ডগুলো- সেটা করার জন্য উঠেপড়ে লাগে। যেমন অ্যাপল বক্সি শেইপ আনা শুরু করার পর রাউন্ডেড শেইপ উধাও হয়ে গেলো, ক্যামেরা মডিউল কে কত কপি করতে পারে তার প্রতিযোগিতা। নিজের ব্র্যান্ড আইডেন্টিটি তৈরি করার চেষ্টা, একটু ভিন্ন অডিয়েন্স নিয়ে কাজ করা- এগুলোতে কেউ নেই। বাজেট অনুযায়ী ২-৩টা টেমপ্লেট বানিয়ে ফেললে ওগুলো দিয়ে সব মোবাইলের ওভারভিউ লেখা যাবে বাজারের, কারণ ভিন্নতা খুবই কম। কাজেই লেখার আগ্রহটা কোন জায়গা থেকে আসবে এটা একটা প্রশ্ন।
এখানে আরেকটা কথা আছে অবশ্য। ইন্টারেস্টিং অনেক কিছুই দেখা যায় শখের কিছু প্রোজেক্ট হয়, বা ছোটখাট টিমের কাজ- যেগুলো নিয়ে অনলাইনে কথাবার্তা সেভাবে হয় না। কিন্তু এই জিনিসগুলো চোখে পড়াও মুশকিল। বিশেষ করে প্রথমেই যে পয়েন্টটা বললাম- টেক জগৎ থেকে অনেকটা ডিটাচড- এরকম একটা অবস্থায়।
সবশেষে আরেকটা দিকও আছে। যথাযথ অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছাতে না পারা। যেমন কিছুদিন আগে আমার গ্রাফিক্স ট্যাবলেটের রিভিউ করেছিলাম। বেশ ভালো একটা সময় গেছে আর্টিকেলটা শেষ করতে- কারণ লেখার বাইরে মার্কেট নিয়ে কিছুটা ধারণা নেয়া, কিছু টেস্ট চালানো, ছবি তোলা সহ অনেক বাড়তি বিষয় আছে। এখন স্ট্যাটস অনুযায়ী এটা ২০ বার ভিউ হয়েছে। তো অবশ্যই স্বাভাবিক- একজন র্যান্ডম মানুষের কাছে গ্রাফিক্স ট্যাবলেটের রিভিউ পড়তে যাবে কেন এমনিই। কিন্তু ইন এনি কেস, প্রশ্নটা আসে, তাহলে লেখার কোন কারণ আসলে আছে কিনা।
তো সব মিলিয়ে এই অবস্থায় আছি। GR+ BD এর উদ্দেশ্য বাংলা টেক ব্লগকে জনপ্রিয় করে তোলা এবং এখনকার সময়ে বিশেষ করে রিলস ও শর্টস ভিডিও ধরণের মাধ্যমগুলোতে সস্তা ধরণের কনটেন্টগুলো ভাইরাল হওয়ার যে একটা প্রবণতা তৈরি হয়েছে- সেখানে মানসম্মত কনটেন্টকে উৎসাহিত করা। তবে সত্যি কথা হলো, আমি নিজে একরকম দ্বিধার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছি। GR+ BD এর জন্য আপনাদের পরামর্শ ও সাজেশন আশা করছি।

