লিনাক্স ডিস্ট্রো রিভিউ (পর্ব-২): উবুন্টু

আসসালামু আলাইকুম। GR+ BD এর ধারাবাহিক লিনাক্স ডিস্ট্রো রিভিউয়ের দ্বিতীয় পর্বে আমরা কথা বলবো উবুন্টু নিয়ে। উবুন্টুকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কিছুই নেই, বরং ডেস্কটপ ইউজারদের মধ্যে লিনাক্সকে পরিচিত করানোর বড় অংশের কৃতিত্ব উবুন্টুর।

উবুন্টুর পরিধি বিস্তৃত- IoT, Enterprise, Server, Cloud- বিভিন্ন জগতে তাদের পদচারণা আছে। ডেস্কটপের জন্য আছে উবুন্টুর বিভিন্ন ফ্লেভার- কুবুন্টু, লুবুন্টু, উবুন্টু মাতে, উবুন্টু ইউনিটি প্রভৃতি নামে। এই রিভিউয়ে আমরা শুধু মূল উবুন্টু ডেস্কটপে ফোকাস করব।

প্রথম পর্বে আমরা ফিডোরা নিয়ে কথা বলেছি। আমি নিজে যদিও ফিডোরা ব্যবহার করছি এবং ফিডোরার এক্সপ্রেরিয়েন্স আমার চমৎকার মনে হয়- তবে একদম নতুন, বিশেষ করে কম্পিউটারের সাথে তেমন অভ্যস্থ না, এমন কাউকে ফিডোরা আমি সাধারণত রেকমেন্ড করব না। কেননা ফিডোরা ইন্সটলের পর টুকটাক কিছু সেটআপ ও মানিয়ে নেয়ার প্রাথমিক একটা পর্যায় পার করার ব্যাপার থাকে। উবুন্টু সে তুলনায় নতুনরা খুব সহজে ব্যবহার শুরু করতে পারবে।

উবুন্টু

উবুন্টু যাত্রা শুরু করে ২০০৪ সালে। Ubuntu 4.10 (কোডনেম: Warty Warhog) উবুন্টুর প্রথম রিলিজ। এটা গ্নোম ডেস্কটপের সাথে আনা হয়। পরবর্তী ভার্সনগুলোতে অন্যান্য ডেস্কটপ দিয়ে উবুন্টু ফ্লেভারস ইন্ট্রোডিউস করা হয়। তবে 10.10 সংস্করণ পর্যন্ত গ্নোম উবুন্টুর ফ্ল্যাগশিপ ডেস্কটপ হিসেবে থাকে।

তবে ২০১১ সালের এপ্রিলে Gnome 3 রিলিজ হয়, যেখানে গ্নোম সম্পূর্ণ নতুন একটা গতিপথ নেয়। উবুন্টু তখন গ্নোম থেকে সরে এসে তাদের নিজেদের ইউনিটি (Unity) ডেস্কটপ ডেভেলোপ করে- যা Ubuntu 11.04 থেকে Ubuntu 17.04 পর্যন্ত ব্যবহার হত। তবে উবুন্টু ১৭.১০ তে আসতে আসতে গ্নোমের নতুন ওয়ার্কফ্লো কিছুটা ম্যাচিউর হয়, ক্যানোনিকাল (উবুন্টুর প্যারেন্ট কোম্পানি) এরও ততদিনে ইউনিটি ডেভেলোপের প্রতি মন উঠে যাওয়াতে তারা আবারো গ্নোমে শিফট করে।

উবুন্টুর সর্বশেষ সংস্করণ Ubuntu 25.04-এ থাকছে লিনাক্স কার্নেল 6.14 ও Gnome 48 ডেস্কটপ। প্রসঙ্গত একটু বলে রাখি, গ্নোমের লেটেস্ট ভার্সন হলো Gnome 48। তো মূলত 3.38 এর পর Gnome 3.40 বা Gnome 4.0 না এনে Gnome 40 এভাবে আনে তারা। যেকারণে ভার্সন নাম এতদূর এসেছে।

রিলিজ শিডিউল

উবুন্টু প্রতি ৬ মাস অন্তর নতুন ভার্সন রিলিজ করে। একটি এপ্রিল মাসে ও অন্যটি অক্টোবর মাসে রিলিজ হয়। উবুন্টু এই বিষয়টি স্ট্রিক্টলি মেইনটেন করে। ভার্সনের নাম্বারিং হয় YY.MM এই ফরমেটে, যেমন Ubuntu 24.10, 25.04। দুই বছর পরপর LTS (Long Term Support) ভার্সন রিলিজ হয়। উবুন্টুর লেটেস্ট ভার্সন হলো 25.04 এবং লেটেস্ট LTS ভার্সন হলো Ubuntu 24.04।

উবুন্টুর ভার্সনগুলো প্রতিটার একটা কোডনেম থাকে দুই শব্দের। দুই শব্দ একই ইংরেজি লেটার দিয়ে শুরু হয়, দ্বিতীয় শব্দটা একটা প্রাণীর নাম, প্রথম শব্দটা তার সাথে একটা বিশেষণ। প্রতিবারের নাম আগের নামের পরবর্তী লেটার দিয়ে শুরু হয়। যেমন 24.04 Noble Numbat, 24.10 Oracular Oriole, 25.04 Plucky Puffin।

উবুন্টুর সাধারণ ভার্সনগুলো ৯ মাস পর্যন্ত সাপোর্ট দেয়া হয়। তবে LTS ভার্সনগুলো ৫ বছর স্ট্যান্ডার্ড সাপোর্ট দেয়। তার সাথে আবার Ubuntu Pro প্রকল্পের মাধ্যমে রিলিজ থেকে ১০-১২ বছর পর্যন্ত এক্সটেন্ডেড সাপোর্টের মাধ্যমে সিকিউরিটি আপডেট পাওয়ার সুযোগ থাকে।

LTS ভার্সন দীর্ঘদিন আপডেট পাওয়াতে কোন ইস্যু বা বাগ থাকলে সাধারণভাবে তা সমাধান হয়ে যায় এবং একটা স্ট্যাবল এক্সপ্রেরিয়েন্স পাওয়া যায়। এন্টারপ্রাইজ বা বিজনেস ইউসেজে এই দীর্ঘ সাপোর্টের সময়কাল বিশেষভাবে এডভান্টেজ দেয়। Non-LTS ভার্সনগুলো অনেকসময় একটু কম স্ট্যাবল হতে পারে। তবে সেখানে লেটেস্ট ফিচারগুলো থাকবে।

আমরা যদি ফিডোরার সাথে একটু সংক্ষিপ্ত তুলনা করতে চাই- ফিডোরা প্রতি ৬ মাসে রিলিজ হলেও তারা এই জায়গাতে ফ্লেক্সিবল, একটু কমবেশি হতে পারে। ফিডোরাতে LTS স্কিম নেই, সব রিলিজ ১৩ মাসের মত সাপোর্ট পেয়ে থাকে। উবুন্টু সাপোর্টের সময়কালে মূলত বাগফিক্স ও সিকিউরিটি আপডেট দিয়ে থাকে, অন্যদিকে ফিডোরা সাধারণ সফটওয়্যারগুলোও রিপোজিটরীতে আপডেটেড রাখে। উবুন্টুর প্যাকেজ ম্যানেজমেন্ট নিয়ে আরো ডিটেইলে সামনে আসছি।

উবুন্টু – UI ও UX

গ্নোম ডেস্কটপ ব্যবহার করলেও উবুন্টুর গ্নোম ইমপ্লিমেন্টেশন অনেকটা কাস্টমাইজড। বামদিকে দৃশ্যমান ডক, ডেস্কটপ আইকন, মিনিমাইজ-ম্যাক্সিমাইজ বাটনসহ উইন্ডোজ ও ম্যাক ইউজারদের জন্য তুলনামূলক পরিচিত একটা ইন্টারফেস দিবে উবুন্টু। তবে উবুন্টুর ডকে বাই ডিফল্ট একটিভ অ্যাপে ক্লিক টু মিনিমাইজ এনাবল করা নেই- যেটা আমার কাছে মিনিংফুল ডিজাইন চয়েস মনে হয় না।

পাশাপাশি উবুন্টুর নিজস্ব থিমিং ও ব্র্যান্ডিং, কালার, মাস্কটসহ ওয়ালপেপার উবুন্টুকে নিজস্ব ক্যারেক্টার দিয়েছে। তার সাথে গ্নোমের এক্টিভিটিস ওভারভিউ ও ওয়ার্কশপ ইমপ্লিমেন্টেশন, স্মুথ ওয়ান টু ওয়ান টাচপ্যাড জেসচার, আই-সুদিং এনিমেশন সবকিছু থাকছে এখানে।

তো ফিডোরার তুলনায় উবুন্টুর UX অবশ্যই নতুনদের জন্য কিছুটা সহজ। আবার ওয়ার্কস্পেস ব্যবহার কর মাল্টিটাস্কিংকে আরো ইফিশিয়েন্ট করা সম্ভব। কাস্টমাইজেশনের কথা বললে ফিডোরা আর উবুন্টু দুটোই যেহেতু আন্ডার দা হুড গ্নোম ডেস্কটপ ব্যবহার করছে- একই ধরণের কাস্টমাইজেশন উভয়টিতে সম্ভব এবং একটিকে অন্যটির মত লুক এন্ড বিহেভিয়র দেয়া সম্ভব। তবে উবুন্টু আউট অফ দা বক্স আরো বিগিনার ফ্রেন্ডলি এবং সরাসরি সেটিংসে কিছু বাড়তি অপশনও রয়েছে।

UI/UX এর বিষয়গুলোরও বাইরে উবুন্টু ইন্সটলের পরপরই ব্যবহারের জন্য বেশ প্রস্তুত একটি ডেস্কটপ পেয়ে যাবেন। প্রয়োজনীয় প্রোপ্রাইটরী ড্রাইভার ও মাল্টিমিডিয়া ফরমেট সাপোর্ট (কোডেক) গুলো উবুন্টু ইন্সটলের সময়ই ইন্সটল করে নিতে পারবেন।

এক্সপ্রেরিয়েন্স

ফিডোরার রিভিউয়ে একটা কথা বলেছিলাম- বর্তমানে উবুন্টুর এক্সপ্রেরিয়েন্সে কিছুটা ইনকন্সিস্টেন্সি আছে। উবুন্টু যেহেতু গ্নোমের কাস্টমাইজড সংস্করণ ব্যবহার করে, সেহেতু গ্নোমের কোন ডিজাইন ডিশিসনে পরিবর্তন আসলে সেটা উবুন্টু কীভাবে এডজাস্ট করে এই একটা ব্যাপার থাকে। GTK3 ও GTK4 লাইব্রেরি কিংবা deb ও Snap প্যাকেজিংয়ে আসা অ্যাপগুলোর মধ্যে থিমিং ও পারফর্মেন্সজনিত একটা তফাৎ ছিলো। এর বাইরে উবুন্টুর আগের কিছু ভার্সনে কিছু ইস্যু পেয়েছি কখনো কখনো। এই ব্যাপারগুলোর প্রেক্ষিতে কথাটা বলা।

তবে এই রিভিউ লেখার সময় উবুন্টুর লেটেস্ট ভার্সন (25.04) ব্যবহার করে এক্সপ্রেরিয়েন্স খুবই স্মুথ পেয়েছি। বিভিন্ন অ্যাপের আন্ডার দা হুড প্রযুক্তিগত পার্থক্যের ব্যাপারটা আছে- তবে পারফর্মেন্স বা থিমিংয়ের দিকগুলোতে উবুন্টু কাজ করেছে এবং সামগ্রিক এক্সপ্রেরিয়েন্স অনেক অপটিমাইজড ও পলিশড মনে হয়েছে।

যাইহোক, ফিডোরা যতটা ক্লিন এক্সপ্রেরিয়েন্স দেয়- উবুন্টু তুলনামূলক একটু ব্লটেড। একটা উদাহরণ দিই, উবুন্টু ও ফিডোরার প্রিইন্সটল্ড সফটওয়্যার সেট কাছাকাছি ধরণের হলেও উবুন্টুর আইএসও সাইজ 5.9 GB এবং ফিডোরার আইএসও সাইজ 3.5 GB। এটার একটা কারণ সম্ভবত উবুন্টুর বিভিন্ন লাইব্রেরী ও প্যাকেজিংয়ের মিক্সআপ। যেমন ইন্সটলারটি Flutter বেজড, নতুন অ্যাপগুলো GTK4/Libadwaita বেজড, কিছু অ্যাপ GTK3 বেজড। আবার কিছু প্যাকেজ Snap হিসেবে, কিছু ট্রেডিশনাল প্যাকেজিংয়ের সাথে আছে।

দৃৃশ্যমান উদাহরণ দিলে- ফিডোরাতে সফটওয়্যার ইন্সটল, রিপোজিটরী ম্যানেজমেন্ট, আপডেট সবকিছুই ‘Software’ অ্যাপ থেকে করা যায়। অন্যদিকে উবুন্টুতে এজন্য তিনটা আলাদা অ্যাপ- App Center, Software & Updates, Software Updater। আপডেটগুলো সাধারণ নোটিফিকেশন হিসেবে না এসে পপআপ উইন্ডোজ হিসেবে আসে- যেটা একটু বিরক্তিকর।

অবশ্য ব্লটেড আমি ফিডোরার তুলনায় বলেছি। উইন্ডোজের বেলায় যেমন অপ্রয়োজনীয় AI বা Recall ফিচার, স্টার্ট মেনুতে বিভিন্ন অ্যাপসের এড, অযাচিত নিউজ উইজেট ব্যাপারগুলো আছে- এরকম বাড়তি ব্লট কিন্তু উবুন্টুতে একদমই নেই।

Snap – The Elephant in the Room

উবুন্টুর বর্তমান এক্সপ্রেরিয়েন্সের সবচেয়ে বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন হলো Snap-এর ইমপ্লিমেন্টেশন। ডেবিয়ান, রেডহ্যাট, আর্চ লিনাক্স, সোলাস, ওপেনসুসে- বিভিন্ন লিনাক্স ডিস্ট্রো ফ্যামিলির ভিন্ন ভিন্ন সফটওয়্যার প্যাকেজিং পদ্ধতি রয়েছে। যেমন ধরা যাক কোন একটি লিনাক্স সফটওয়্যারের ডেবিয়ান প্যাকেজ বানানো হলো- এটা ডেবিয়ান, উবুন্টু, লিনাক্স মিন্ট এরকম ডেবিয়ানভিত্তিক ডিস্ট্রোগুলোতে সাপোর্ট করবে। কিন্তু ফিডোরা বা রেড হ্যাট লিনাক্সে সাপোর্ট করবে না।

স্বাভাবিকভাবেই ডেভেলোপারদের জন্য সব ডিস্ট্রোর জন্য প্যাকেজিং করা খুবই ঝামেলার। এর সমাধানে বেশ কিছু প্যাকেজিং পদ্ধতি গড়ে উঠেছে। যার মধ্যে আছে Flatpak, Snap ও AppImage। অ্যাপইমেজ পোর্টেবল ধরণের- এক্সিকিউটেবল ফাইল থেকে সরাসরি ব্যবহার করা যায়। Flatpak ও Snap অন্যদিকে ইউজারের দিক থেকে সাধারণ অ্যাপের মতই- ইন্সটল করে ব্যবহার করতে হয়।

প্রায় সব মেইনস্ট্রিম ডিস্ট্রোতেই Flatpak ও Snap সাপোর্ট এনাবল করে নেয়া যায়, এবং বেশিরভাগ ডিস্ট্রোতেই অন্তত একটি বাই ডিফল্ট সাপোর্ট থাকে। যেমন- ফিডোরাতে Flatpak, জরিন ওএসে Flatpak ও Snap দুটোই সাপোর্ট আছে। Flatpak, Snap আর ট্রেডিশনাল প্যাকেজিংয়ের মূল তফাৎটা দেখা যায় অনেক বেশি ব্যাকএন্ড প্রযুক্তি ও ডেভেলোপারের পর্যায়ে- ইউজারের দিকে খুব একটা তারতম্য নেই। আবার উবুন্টুর মত যে ডিস্ট্রোগুলো রিপোজিটরীতে সব সফটওয়্যার আপ টু ডেট রাখে না- সেখানে আপডেট সফটওয়্যারগুলো সহজে পাওয়া যায়।

এখন উবুন্টুর Snap ইমপ্লিমেন্টেশনে সমস্যা কী তাহলে? সমস্যা হলো উবুন্টুর ক্ষেত্রে Snap কোন চয়েস না, বরং অনেকটা ফোর্সড। উবুন্টুর বর্তমান App Center হেভিলি Snap ফোকাসড। এখান থেকে শুধু Snap অ্যাপগুলো এক্সপ্লোর ও ম্যানেজ করা যায়। ডেবিয়ান অ্যাপগুলো শুধুমাত্র সার্চ করে, এরপর আলাদাভাবে ফিল্টার করে পাওয়া যায়।

Manage পেজে শুধুমাত্র Snap প্যাকেজগুলো ম্যানেজ করা যায়। আর ডেবিয়ান প্যাকেজগুলো কমান্ড লাইনে ম্যানেজমেন্ট শেখার জন্য বিস্তারিত ডকুমেন্টেশন দিয়ে দেয়া- যেটা দীর্ঘ হওয়াতে লিনাক্সে নতুন কারো জন্য বেশ কমপ্লিকেটেড লাগতে পারে।

অন্যদিকে ফিডোরাতে যদি দেখি, RPM ও Flatpak সব প্যাকেজই এক্সপ্লোর করা যায়। একই অ্যাপ একাধিক প্যাকেজিংয়ে থাকলে অ্যাপ্লিকেশনের পেজ থেকে ইন্সটলের সময় সরাসরি কোন সোর্স থেকে ইন্সটল করা হবে সিলেক্ট করা যায়। জরিন ওএসে-ও DEB, Flatpak, Snap ফর্মেটগুলো একইভাবে কাজ করে।

সো উবুন্টুর এই ব্যাপারটা কোন টেকনিকাল লিমিটেশন না। বরং Snap কে প্রতিষ্ঠা করার একটা চেষ্টা। এটার কারণ মূলত কমার্শিয়াল। Snap উবুন্টুর প্যারেন্ট কোম্পানি, ক্যানোনিকালের ডেভেলোপ করা। যেকারণে তারা এটা প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ডেসপারেট। এছাড়া Snap প্যাকেজের ডিস্ট্রিবিউশন অনেকাংশে সেন্ট্রালাইজড- ক্যানোনিকাল নিয়ন্ত্রিত Snapcraft এর মাধ্যমে। অন্যদিকে Flatpak এর মূল একটি রিপো Flathub থাকলেও থার্ড পার্টি রিপোর মাধ্যমেও Flatpak ডিস্ট্রিবিউট করা যায়।

তো লিনাক্সের ফিলোসফিতে যেহেতু স্বাধীনতা বড় একটা অংশজুড়ে আছে- উবুন্টু ও Snap এর পরিস্থিতি ব্যবহারকারীদের অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন তৈরি করেছে। আর উবুন্টু Snap-কে জোরদার করতে গিয়ে আউট অফ দা বক্স ট্রেডিশনাল অ্যাপগুলো ইন্সটল ও ম্যানেজমেন্টও কঠিন করে ফেলেছে।

ট্রেডিশনাল ডেবিয়ান প্যাকেজ ম্যানেজের জন্য উবুন্টুতে কমান্ড লাইন ব্যবহার করতে হবে বা কোন গ্রাফিকাল প্যাকেজ/সফটওয়্যার ম্যানেজার ইন্সটল করে নিতে হবে। যেমন- Gnome Software (sudo apt install gnome-software)।

উবুন্টু: কাদের জন্য?

তো উবুন্টু ভালো না লাগার কিছু কারণ অবশ্যই আছে। তবে সামগ্রিকভাবে যদি বলি- এখনো উবুন্টু ডেস্কটপের জগতে শীর্ষস্থানীয় লিনাক্স ডিস্ট্রোগুলোর মধ্যে থাকবে। এবং ক্যানোনিকালের কমার্শিয়াল দিকগুলো যদিও পছন্দ না হয়, এটা সত্য যে কমার্শিয়াল সাপোর্ট ছাড়া এত বছর ধরে একটি ফ্রি অপারেটিং সিস্টেমের টিকে থাকা কঠিন। কেননা বিভিন্ন সময়ে অনেক নতুন লিনাক্স ডিস্ট্রো তৈরি হয়েছে এবং হারিয়েও গেছে বা ডেভেলোপমেন্ট স্তিমিত হয়ে পড়েছে।

যাই হোক, ওসব আলাপ বাদ দিয়ে শুধু অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে যদি দেখি- উবুন্টু একটা চমৎকার ও আধুনিক অপারেটিং সিস্টেম। নতুন হিসেবে লিনাক্সের যাত্রা শুরু করতে গিয়ে অনেক অনেক ডিস্ট্রোর ভিড়ে যদি কনফিউজড হয়ে যান, উবুন্টু একটা সেফ চয়েস। দীর্ঘদিনের যাত্রাপথ, বিস্তৃত ইউজারবেস, কমিউনিটি ও কমার্শিয়াল সাপোর্ট সবকিছু উবুন্টুকে সেই জায়গাটাতে নিয়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *