আসসালামু আলাইকুম। GR+ BD এর লিনাক্স ডিস্ট্রো রিভিউ সিরিজে সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আমরা ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন লিনাক্স ডিস্ট্রো সম্পর্কে এখানে কভার করব ইন শা আল্লাহ।
লিনাক্স ডিস্ট্রো কথাটা লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশনের সংক্ষিপ্ত রূপ, এটা দিয়ে লিনাক্স কার্নেল ব্যবহার করে এমন সব অপারেটিং সিস্টেমকে বোঝায়। আপনি হয়ত উবুন্টু, লিনাক্স মিন্ট, জরিন ওএস, আর্চ লিনাক্স, ফিডোরা এরকম অনেকগুলো নাম শুনেছেন। এগুলো কয়েকটা লিনাক্স ডিস্ট্রোর উদাহরণ। যদি আপনি আরেকটু ঘাঁটাঘাটি করেন, তাহলে আপনি জেনে থাকবেন লিনাক্সে ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্ট (DE) বলে একটা জিনিস আছে, যেটা কোন ডিস্ট্রোর UI/UX এবং অভিজ্ঞতার একটা বড় অংশ নির্ধারণ করে। একই ডিস্ট্রো বিভিন্ন ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্টে এভেইলেবল থাকতে পারে।
এই বিষয়গুলোসহ লিনাক্স নিয়ে একটা বিস্তারিত ধারণার জন্য নিয়নবাতিতে প্রকাশিত আমাদের ৮০০০ শব্দে লিনাক্স পরিচিতি লেখাটি দেখে নিতে পারেন। ওটা অবশ্য ২০২০ সালে লেখা- নিজেই একটু অবাক হলাম, ৫ বছর চলে গেছে এর মধ্যে। যাইহোক, নতুন এই সিরিজে আমরা আরো আপডেটেড রিভিউ দিতে পারবো ইন শা আল্লাহ।
ফিডোরা লিনাক্স
প্রথম পর্বে আমরা শুরু করছি ফিডোরা লিনাক্স থেকে। ফিডোরার যাত্রা শুরু ২০০৩ সালে। অর্থাৎ প্রায় ২২ বছর ধরে ফিডোরা দৃশ্যপটে আছে।
ডেস্কটপ ইউজারদের মধ্যে অতীতে উবুন্টু বা লিনাক্স মিন্ট যতটা পরিচিত ছিলো, ফিডোরা ততটা ছিলো না। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ফিডোরা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটা অবস্থানে উঠে এসেছে- এমনকি আমি বলবো ২০২৫ সালে ডেস্কটপ লিনাক্স এক্সপ্রেরিয়েন্সের গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড হবে ফিডোরা। আর এর কারণ আছে ফিডোরা লিনাক্সের ইতিহাসে।
ফিডোরা লিনাক্স রেড হ্যাট এন্টারপ্রাইজ লিনাক্সের কমিউনিটি-ভিত্তিক আপস্ট্রিম। মূলত ফিডোরা লিনাক্স সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য, আর রেড হ্যাট কমার্শিয়াল সাপোর্টসহ বিজনেস ইউসেজের জন্য। ফিডোরার ওপর ভিত্তি করে রেড হ্যাট লিনাক্স ডেভেলোপ করা হয়। যেকারণে ফিডোরাতে কিছুটা এক্সপেরিমেন্টাল ও আনস্ট্যাবিলিটির একটা ব্যাপার ছিলো।
এখনো ফিডোরা ও রেড হ্যাট লিনাক্সের এই সম্পর্ক আছে। এবং ফিডোরা নতুন টেকনোলজিগুলোকেও সবার আগে এডপ্ট করে থাকে। তবে ফিডোরা এখন মোটেই শুধু এক্সপেরিমেন্টাল একটা অবস্থায় নেই, বরং ডেস্কটপ ইউজারদের জন্য ফিডোরা ওয়ার্কস্টেশন একটা পলিশড, রিলায়েবল ও সলিড অপশন।
ফিডোরার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার আরেকটা কারণ হলো উবুন্টুর এক্সপ্রেরিয়েন্সে এখন কিছুটা ইনকন্সিস্টেন্সি আছে। লিনাক্স মিন্টসহ অনেক ডিস্ট্রোগুলো প্রযুক্তিগত দিকে কিছুটা পিছিয়ে আছে। যেকারণে কারো কারো কাছে ফিডোরা এখন ডেস্কটপ লিনাক্সের জগতে সেই জায়গাটাতে উঠে আসছে- যেখানে আগে উবুন্টু ছিলো।
কাটিং-এজ টেকনোলজি: ফিডোরার বিশেষত্ব
বলা যায় ঠিক এই মুহুর্তে লিনাক্স একটা ট্রানজিশন স্টেজের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে- ফাউন্ডেশনাল পর্যায়ে একটা পরিবর্তন। যার মধ্যে আছে-
- পুরনো X11 ডিসপ্লে সার্ভারের বদলে নতুন ওয়েল্যান্ড ডিসপ্লে সার্ভার
- আপগ্রেডেড গ্রাফিক্স টুলকিট, যেমন- GTK4 ও Qt6
- ইউনিভার্সাল প্যাকেজ ম্যানেজমেন্ট, যেমন- Flatpak
- ALSA/PulseAudio এর পরিবর্তে PipeWire অডিও সার্ভার
- SELinux সিকিউরিটি মডিউল
এখন এই জিনিসগুলো সরাসরি দৃশ্যমান না হলেও এগুলো মূলত গ্রাউন্ডওয়ার্ক, যা একটা সামগ্রিক মডার্ন এক্সপ্রেরিয়েন্সের জন্য জরুরী। উন্নত সিকিউরিটি,বেটার মাল্টি-মনিটর সাপোর্ট, ফ্র্যাকশনাল স্কেলিং, টাচস্ক্রিন ও টাচপ্যাড এক্সপ্রেরিয়েন্স, বেটার মাল্টিমিডিয়া এক্সপ্রেরিয়রন্স, সফটওয়্যার ইন্সটলেশন এক্সপ্রেরিয়েন্স অনেক জায়গায় সরাসরি এই বিষয়গুলোর প্রভাব আছে।
এখন সামনের দিকে সব লিনাক্স ডিস্ট্রো ও ডেস্কটপকে-ই এই ট্রানজিশনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে এটা বলাই বাহুল্য- তবে এখন পর্যন্ত সব লিনাক্স সমানভাবে এই নতুন প্রযুক্তিগুলোকে এডপ্ট করেনি। আর এখানেই চলে আসে ফিডোরা।
ফিডোরার বিশেষত্ব হলো তারা এরকম নতুন প্রযুক্তিগুলোকে সবচেয়ে দ্রুত এডপ্ট করাদের মধ্যে থাকে। অবশ্যই একটা ট্রানজিশনের ক্ষেত্রে শুরুতে একটা আনস্ট্যাবল বা এক্সপেরিমেন্টাল পর্যায় পার করতে হয়। ফিডোরার আগের কিছু ভার্সনে যার প্রভাব পড়েছে। তবে বর্তমানে এই প্রযুক্তিগুলো ম্যাচিউর হয়ে উঠেছে- যেকারণে ফিডোরার এখনকার এক্সপ্রেরিয়েন্স খুবই পলিশড।
ফিডোরার ভ্যারিয়েন্টগুলো
ফিডোরার বেশ অনেকগুলো ভ্যারিয়েন্ট আছে। Fedora Workstation, KDE Plasma Desktop, Server, IoT, Cloud, COREOS প্রভৃতি। এই লেখাতে আমরা স্পেসিফিকভাবে ফিডোরা ওয়ার্কস্টেশনে ফোকাসড থাকবো।
ফিডোরা ওয়ার্কস্টেশন
Fedora Workstation ও KDE Plasma Desktop এই ভার্সন দুটো সাধারণ ডেস্কটপ ও ল্যাপটপ ইউসেজের দিকে ফোকাস করে তৈরি। এদের পার্থক্য হলো এরা যথাক্রমে গ্নোম ও কেডিই প্লাজমা ডেস্কটপ ব্যবহার করে। এছাড়া ফিডোরার কিছু স্পিনস আছে- XFCE, Mate, Cinnamon সহ বিভিন্ন ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্ট দিয়ে।
বলা যায় লিনাক্স কার্নেল+আধুনিকতম লিনাক্স প্রযুক্তি+বিশুদ্ধ গ্নোম, এই হলো ফিডোরা ওয়ার্কস্টেশন। আর এটা সত্যি একটা চমৎকার কম্বিনেশন। চকচকে- প্রথম দেখাতে নজর কেড়ে নিবে ফিডোরার ব্যাপারটা এরকম না। বরং পরিচ্ছন্ন, নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত একটা এক্সপ্রেরিয়েন্স- ফিডোরার আকর্ষণ এই জায়গাতে। ফিডোরার ডিফল্ট ওয়ার্কফ্লো উইন্ডোজ বা ম্যাক ওএস থেকে খুবই ভিন্ন ধরণের। এখানে মানিয়ে নিতে একটু সময় প্রয়োজন- তবে অভ্যস্থ হয়ে গেলে এটা খুবই প্রোডাক্টিভ।
ফিডোরা ওপেন সোর্সের দিক থেকে বিশুদ্ধবাদী। প্রিইন্সটল্ড হিসেবে বা মূল রিপোজিটরীতে ফিডোরাতে কোন প্রোপ্রাইটরী প্যাকেজ থাকে না, কেবলমাত্র ফিডোরার গাইডলাইনে উত্তীর্ণ FOSS (Free and Open Source) সফটওয়্যারগুলো থাকে। মাল্টিমিডিয়া প্লেব্যাকের জন্য প্রয়োজনীয় কোডেক ও প্রপ্রাইটরী ড্রাইভারগুলো আলাদাভাবে ইন্সটল করতে হয়।
রিলিজ শিডিউল
লেটেস্ট Fedora 42 Workstation-এ থাকছে লিনাক্স কার্নেল ভার্সন 6.15 ও Gnome 48 ডেস্কটপ। ফিডোরা ওয়ার্কস্টেশন মোটামুটি ছয় মাস পরপর নতুন ভার্সন রিলিজ করে, যেগুলোতে আপডেটেড কার্নেল, ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্ট ও নতুন ফিচার থাকে। প্রতিটি ভার্সন ১৩ মাস পর্যন্ত সাপোর্ট করা হয়, এই সময়কালে সফটওয়্যার ও সিকিউরিটি আপডেট দেয়া হয়। ফিডোরার ক্ষেত্রে সময়কালগুলো ফ্লেক্সিবল- দরকারমত একটু কমবেশি হতে পারে।
১৩ মাস সাপোর্ট থাকাতে মাঝখানে একটি ভার্সন আপগ্রেড স্কিপ করার সুযোগ আছে। ফিডোরার রিলিজ মডেলের ভালো দিক হলো ডেস্কটপ এনভায়নমেন্ট, সিস্টেম ইউটিলিটি বা কার্নেলের মত কোর কম্পোনেন্টগুলো ছাড়া সাধারণ সফটওয়্যারগুলো তারা সাপোর্টের সময়কালে নিয়মিত আপডেট দিয়ে থাকে।
প্যাকেজ ম্যানেজমেন্ট
ফিডোরার প্যাকেজিং ফরমেট হলো RPM। এছাড়া ইউনিভার্সাল প্যাকেজিং ফর্মেটের মধ্যে Flatpak ইনক্লুডেড আছে। বাই ডিফল্ট ফিডোরার রিপোজিটরিতে শুধু FOSS প্যাকেজগুলো পাওয়া যাবে। সব ধরণের সফটওয়্যার পাওয়ার জন্য থার্ড পার্টি রিপোজিটরিজ ও RPM Fusion এনাবল করে নিতে হবে। এর বাইরে .rpm ফরমেটে থাকা প্যাকেজগুলো ফিডোরাতে ইন্সটল করা যায়।
ইনিশিয়াল সেটআপ গুলো করে নিলে সব ধরণের লিনাক্স সফটওয়্যার ফিডোরাতে পেয়ে যাবেন। গ্রাফিকাল Software অ্যাপ থেকে কিংবা dnf কমান্ড লাইন টুল ব্যবহার করে সহজেই সফটওয়্যার ইন্সটল করা যায়।

সিস্টেম রিকুয়ারমেন্ট
ফিডোরা ব্যবহারের জন্য মধ্যম মানের পিসি থাকলে ভালো। 64 বিট সমর্থন থাকতে হবে এবং অন্তত 4GB র্যাম থাকলে ভালো এক্সপ্রেরিয়েন্স পাওয়া যাবে। আরো কম র্যামে চালানো সম্ভব, তবে এক্সপ্রেরিয়েন্স স্লাগিশ হতে পারে।
গ্নোম ডেস্কটপ – নতুন একটি এক্সপ্রেরিয়েন্স
ফিডোরা ওয়ার্কস্টেশন গ্নোম ডেস্কটপের সম্পূর্ণ ক্লিন একটা ইন্সটলেশনের সাথে আসে। গ্নোম ডেস্কটপের ডিফল্ট এক্সপ্রেরিয়েন্স আসলে আর সবার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। নিচের স্ক্রিনশটগুলোতেই আপনি বুঝে নিতে পারবেন- এটা উইন্ডোজ কিংবা ম্যাক ওএস কোনটার মতই না।



খেয়াল করুন, এখানে ডেস্কটপে কোন আইকন নেই। আরো খেয়াল করুন, এখানে কোন মিনিমাইজ বা ম্যাক্সিমাইজ বাটন নেই। নিচের ডকটি সবসময় ভিজিবল না, শুধু এক্টিভিটিজ ওভারভিউয়ে গেলে দৃশ্যমান হবে। তো আসলে গ্নোমের এক্টিভিটিস ওভারভিউ- এই জায়গাতেই মূল মজা। এখান থেকে অ্যাপ্লিকেশনগুলো এক্সেস করতে পারবেন এবং একাধিক ওয়ার্কস্পেসে চালু থাকা অ্যাপগুলো সাজিয়ে রাখতে পারবেন।


তো শুরুতে অবশ্যই এটা একটু নতুন ধরণের এক্সপ্রেরিয়েন্স। অন্য কোন অপারেটিং সিস্টেম থেকে আসলে মানিয়ে নেয়ার একটা ব্যাপার আছে। তবে আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, একবার অভ্যাস হয়ে গেলে গ্নোমের ওয়ার্কফ্লো খুবই প্রোডাক্টিভ। মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য এর থেকে ভালো কিছু হয় না।
প্রসঙ্গত টুইক টুল ও এক্সটেনশনের মাধ্যমে এই বিষয়গুলো পরিবর্তন করা সম্ভব। উবুন্টু, জরিন ওএস, পপ!_ওএস সহ অনেক ডিস্ট্রো বাই ডিফল্ট গ্নোম ডেস্কটপের কাস্টমাইজড সংস্করণের সাথে আসে। কিন্তু পার্সোনালি আমার ক্লিন গ্নোমের এক্সপ্রেরিয়েন্স খুবই চমৎকার মনে হয়। ফিডোরা পছন্দ হওয়ার অন্যতম কারণ এটা।
তবে গ্নোম ব্যবহারের সবচেয়ে বড় মজা ল্যাপটপে। কারণ এখানে খুব স্মুথ ওয়ান টু ওয়ান টাচপ্যাড জেসচার আছে। টাচপ্যাডে ওপরের দিকে থ্রি-ফিঙ্গার সয়াইপ করলে প্রথমে ওভারভিউ ও পরে অ্যাপ ড্রয়ার আসে, আবার নিচের দিকে সয়াইপ করে ডেস্কটপে ফেরত যাওয়া যায়। পাশাপাশি সয়াইপ করলে ওয়ার্কস্পেস পরিবর্তন হয়।
তবে মাউস আর কীবোর্ডের সাথে এক্সপ্রেরিয়েন্সও ভালো। মাউসের ক্ষেত্রে একটা ইনকনভিনিয়েন্স হলো ওভারভিউ এক্সেস করতে হয় ওপরে ডান কোণায়, আবার অ্যাপ্লিকেশনের ডক সেখানে নিচের অংশে। তো কার্সর মুভমেন্ট একটু বেশি। তবে এরপরও এই ওয়ার্কফ্লো আমার কাছে ইফেক্টিভ মনে হয়- আর সেইসাথে কীবোর্ড শর্টকাটগুলো ব্যবহারে অভ্যস্থ হলে তো কথাই নেই!
মেজর সব লিনাক্স ডেস্কটপেই এরকম ওয়ার্কস্পেস বা মাল্টিপল ডেস্কটপের ব্যবহার আছে। উইন্ডোজ ১০ ও ১১-তেও আছে। কিন্তু কোনটার ইমপ্লিমেন্টেশন গ্নোমের মত seamless না- উইন্ডোজ ব্যবহারকারী অনেকেই হয়ত এটা নিয়ে জানেও না। কিন্তু গ্নোমের ইমপ্লিমেন্টেশনটা এমন- যেটা আপনার কম্পিউটার ব্যবহার করার ধরণকে বদলে দিবে।
মজার বিষয় হলো গ্নোম কিন্তু শুরু থেকেই এরকম ছিলো না। মূলত ২০১১ সালে গ্নোম 3 এর রিলিজ থেকে গ্নোম ট্রেডিশনাল ডেস্কটপ এক্সপ্রেরিয়েন্স থেকে বের হয়ে একটা ভিন্ন ধরণের এক্সপ্রেরিয়েন্সের দিকে যেতে শুরু করে। তবে এখান থেকে বুঝতেই পারছেন- গ্নোম বড় একটা সিদ্ধান্ত নিতে খুব একটা দ্বিধা করে না। যেটা অনেক ক্ষেত্রে গ্নোম ব্যবহার করা অন্য ডিস্ট্রোগুলোকে মুশকিলে ফেলে- যেমন সিনামন, মাতের মত ডেস্কটপগুলোর জন্ম হয়েছে গ্নোমের পথ পরিবর্তন পছন্দ না হওয়াতে। বর্তমানে উবুন্টু গ্নোমকে কাস্টমাইজ করে তাদের আগের ইউনিটি ডেস্কটপের মত এক্সপ্রেরিয়েন্স দিতে গিয়ে কিছুটা মিসম্যাচ একটা জায়গাতে নিয়ে গেছে। ফিডোরাতে এরকম সমস্যা নেই- যেহেতু গ্নোমের এক্সপ্রেরিয়েন্স তারা গ্নোমের মতই রেখেছে।
তবে সব জায়গায় এটা আমার পছন্দ এরকম না। যেমন ফিডোরাতে বাই ডিফল্ট নোটিফিকেশন ট্রে আইকন নেই- বিভিন্ন অ্যাপের প্রোপার এক্সপ্রেরিয়েন্সের জন্য যেটা দরকার। ডিফল্ট ফাইল ম্যানেজারের এক্সপ্রেরিয়েন্সে বেশ কিছু ইনকনভিনিয়েন্স আছে। যেমন ফাইল ম্যানেজারে ওপেন উইথ সরাসরি পপআপ ওপেন হয়- উইন্ডোজে যেখানে সবচেয়ে কমন অপশনগুলো সরাসরি দেখায়। আবার ওপেন উইথ পপআপে কোন কাস্টম এক্সিকিউটেবল বা কমান্ডের সাহায্যে ওপেন করার অপশন নেই।
কাস্টমাইজেবিলিটি
এতক্ষণ গেলো আউট অফ দা বক্স এক্সপ্রেরিয়েন্স। লিনাক্স বাই ডিজাইন প্রচন্ডভাবে কাস্টমাইজেবল। সিস্টেম ইউটিলিটি থেকে শুরু করে ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্ট বা কার্নেল ভার্সন- সবকিছুই পরিবর্তনযোগ্য।
যদি গ্নোমের ডিফল্ট ওয়ার্কফ্লো আপনার পছন্দ না হয়- টুইক টুল ও এক্সটেনশন ব্যবহার করে আপনি পছন্দমত কাস্টমাইজ করে নিতে পারবেন। যেমন নিচের স্ক্রিনশটে Dash to Panel ও Arc Menu ব্যবহার করা হয়েছে। এরকম বিভিন্ন এক্সটেনশন আছে গ্নোমের ফাংশনালিটি এক্সটেন্ড করে নেয়ার জন্য।

পার্সোনালি আমি দুটো এক্সটেনশন ব্যবহার করি। Blur My Shell, যেটা গ্নোম শেলে একটা সুন্দর ব্লার ইফেক্ট যোগ করে। এবং অন্যটা AppIndicator and KStatusNotifierItem Support- যেটা সিস্টেম ট্রেতে অ্যাপইন্ডিকেটর দেখানোর ফাংশনালিটি যুক্ত করে- যেটা যেকোন কারণে গ্নোম আউট অফ দা বক্স প্রদান করে না।

তবে থিমিং ক্যাপাবিলিটির দিক থেকে অন্যান্য লিনাক্স থেকে গ্নোম এখন কিছুটা সীমিত। তাদের GTK4 ভিত্তিক Libadwaita লাইব্রেরিতে তৈরি অ্যাপগুলো ট্রেডিশনাল থিমিং সমর্থন করে না। সিএসএস এডিট বা কিছু টুল ব্যবহার করে থিমিং করা যায়- তবে এটা অফিসিয়ালি সমর্থিত না এবং আপডেটে ব্রেক করতে পারে। তবে ডার্ক স্টাইল ও একসেন্ট কালার সমর্থন আছে।

Libadwaita-তে থিমিং সমর্থন না করার বিষয়টি অবশ্য যথেষ্ট কন্ট্রোভার্সিয়াল ছিলো। মূলত সবচেয়ে বেশি কাস্টমাইজেবিলিটির পরিবর্তে কনসিস্টেন্সি ও ডেভেলোপারদের দিকটিকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে গ্নোম- যেকারণে তারা এই সিদ্ধান্তের দিকে গেছে। যদিও আইকন থিম, GTK3 থিম, শেল থিম প্রভৃতি ব্যবহার করতে পারবেন।
ফিডোরা ওয়ার্কস্টেশন: কাদের জন্য?
এতক্ষণ পর্যন্ত পড়ে থাকলে আপনি নিজেই আসলে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন যে ফিডোরা ওয়ার্কস্টেশন আপনার জন্য সঠিক চয়েস হবে কিনা। যদি আপনি ট্রেডিশনাল এক্সপ্রেরিয়েন্স থেকে একটু আলাদা নতুন ধরণের এক্সপ্রেরিয়েন্স চান- এবং নতুন কিছু শিখতে আপত্তি না থাকে- এবং লিনাক্সের সবচেয়ে কাটিং এজ এক্সপ্রেরিয়েন্সের স্বাদ নিতে চান, আমি সহজেই ফিডোরা ওয়ার্কস্টেশন রেকমেন্ড করতে পারি। ফিডোরা বিশেষভাবে ডেভেলোপার-ফ্রেন্ডলি করে ডিজাইন করা। আমি নিজে ফিডোরা ব্যবহার করছি দীর্ঘ একটা সময় ধরে এবং আমার নিজের জন্য এটাকেই আমি সেরা হিসেবে পেয়েছি।
তবে সবার জন্য সেটা সমানভাবে প্রযোজ্য না-ও হতে পারে। ফিডোরা ব্যবহার করতে তেমন কোন দক্ষতা প্রয়োজন নেই। তবে কিছু ইনিশিয়াল সেটআপ ও তার জন্য ক্ষেত্রবিশেষে একটু অনলাইনে ঘাঁটাঘাটি করতে হতে পারে। যেমন থার্ড পার্টি রিপোজিটরী, মাল্টিমিডিয়া কোডেক ও ড্রাইভার ইন্সটলেশনের বিষয়টি বলেছি। লিনাক্সে অভিজ্ঞতা একদমই না থাকলে হয়ত আপনি আরো বেশি প্রি-কনফিগার্ড একটা সেটআপ পছন্দ করতে পারেন। আবার নতুন ধরণের একটা ওয়ার্কফ্লোতে মানিয়ে নেয়ার থেকে আরো পরিচিত ধরণের ইন্টারফেসে থাকতেই অনেকে পছন্দ করবেন। আবার যদি আপনি সবচেয়ে কাস্টমাইজেবল এক্সপ্রেরিয়েন্স চান, সেক্ষেত্রে গ্নোম একটু লিমিটিং লাগতে পারে। এছাড়া যদি কাটিং-এজ টেকনোলজির বদলে দীর্ঘ সময় পরীক্ষিত, সবচেয়ে স্ট্যাবল এক্সপ্রেরিয়েন্সে থাকতে পছন্দ করেন- সেক্ষেত্রেও ফিডোরা উপযোগী হবে না।
আরো দেখুন: AI কি গল্প লিখতে পারে? ৭টি AI-কে দিয়ে একই গল্প লেখানো ও বিশ্লেষণ




