আসসালামু আলাইকুম।
স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা বাজেট রেঞ্জে বর্তমান বাজারে বেশ কিছু ভালো অপশন আছে। Redmi A5 তার মধ্যে একটি। ফ্যামিলির একজন রিসেন্টলি ডিভাইসটি কেনাতে আমার খানিকটা এক্সপ্রেরিয়েন্স করা হয়েছে। যদিও যখন রিভিউটি লিখছি তখন আমার কাছে ফোনটির এক্সেস নেই। যেকারণে সেমি হ্যান্ডস-অন রিভিউ বলছি।
Redmi A5 এর 4/64 ভ্যারিয়েন্টের বাজারমূল্য ১১ হাজার টাকা ও 6/128 ভ্যারিয়েন্টের মূল্য ১৩ হাজার টাকা। Redmi A5-এ থাকছে 6.88″ 120 Hz HD+ ডিসপ্লে, Unisoc T7250 প্রসেসর, 32 MP রেয়ার ও 8 MP সেলফি ক্যামেরা, 5200 mAh ব্যাটারী, 15 W ফাস্ট চার্জিংয়ের মত ফিচারগুলো। স্পেকশিট দেখলে এটা এখনকার সময়ে এই বাজেটে স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেন করছে।

তবে এই ডিভাইসটি কেনার ক্ষেত্রে বড় একটা কন্সিডারেশন থাকবে এখানে Android 15 এর Go এডিশন ব্যবহার করা হয়েছে। মোটামুটি ভ্যানিলা Go ভার্সনের এক্সপ্রেরিয়েন্স, শাওমির HyperOS বা কোন কাস্টম স্কিন থাকছে না। এতে Split Screen সহ কিছু ফিচার থাকছে না এবং এটা খুব একটা কাস্টমাইজেবল না।
HyperOS যদি এই ফোনটার জন্য ভারিও হয়, অন্ততপক্ষে রেগুলার Android 15 নেয়ার জন্য Unisoc T7250 প্রসেসর ও 4 GB র্যাম যথেষ্ট বলে মনে করি। সেক্ষেত্রে আরো ফাংশনাল একটি এক্সপ্রেরিয়েন্স পাওয়া যেত। যাইহোক, Lawnchair বা এরকম একটি লঞ্চার ব্যবহার করতে পারেন এই ফোনটিতে। তাতে আরো বেটার একটি এক্সপ্রেরিয়েন্স পাওয়া যাবে।
আরেকটি দিক যেটা অনেকের পছন্দ হবে না, তা হলো এই ডিভাইসটিতে নচ ডিসপ্লে থাকছে। এইরকম বিষয়গুলো অবশ্য বাজেটে অনেকসময় মেনে নিতে হয়।
স্মার্টফোনের ডিসপ্লের কথা বললে ডিসপ্লে সাইজে একজন আরেকজনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে। যদি আপনি বড় ডিসপ্লে প্রিফার করেন, তাহলে তো ভালো। তবে স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে বহনযোগ্যতা, এক হাতে ব্যবহারের কমফোর্ট এই দিকগুলো চিন্তা করলে বড় ডিসপ্লের এই প্রতিযোগিতা একরকম সমস্যা-ই। মার্কেটে একটু ভ্যারিয়েশন আনার দিকে কোম্পানিগুলোর চিন্তা করার সময় এসেছে মনে হয়।
যাইহোক, Redmi A5-এর 6.88″ ডিসপ্লেতে 120 Hz পর্যন্ত এডাপ্টিভ রিফ্রেশ রেট ও 240 Hz পর্যন্ত টাচ স্যামপ্লিং রেট সমর্থন থাকছে। এর প্রসেসর যদিও হয়ত এই হায়ার রিফ্রেশ রেটের পুরো এডভান্টেজটা দিতে পারবে না। যাইহোক, মোর অর লেস এর ইউআই এক্সপ্রেরিয়েন্স ভালোই ছিলো। আরো হায়ার রেঞ্জের ডিভাইসের সাথে তুলনা করলে অবশ্যই সেই পর্যায়ের বাটার স্মুথ হবে না- তবে আমার সংক্ষিপ্ত অভিজ্ঞতায় ল্যাগ বলা যায়, এমন পর্যায়ের কিছু নোটিশ করিনি। ব্রাইটনেস 450 nits, যা দিনের বেলা আউটডোর ইউজে একটু অসুবিধার কারণ হবে।
Redmi A5-এর ডিজাইন আমার কাছে বিশেষভাবে ভালো লেগেছে। Ocean Blue, Lake Green, Sandy Gold, Midnight Black চারটি কালার আছে। আমার এক্সপ্রেরিয়েন্স করা ডিভাইসটি গোল্ড কালারের ছিলো- এবং এটা বাস্তবে কিছুটা সিলভারের দিকে, তাতে ক্যামেরা মডিউলের গোল্ড বর্ডারটি আরো ফুটে উঠে। ছবির থেকে বাস্তবে দেখতে বেশি সুন্দর হয়েছে। Ocean Blue ও Lake Green কালারে লাইট রিফ্লেকটিভ যে প্যাটার্ন আছে, এটা সামনাসামনি খুবই চমৎকার দেখায়।
পারফর্মেন্সের প্রশ্নে আসলে Unisoc T7250 মোটামুটি ক্যাপাবল একটি চিপসেট। T615 আর এটা একই। এতে থাকছে 2xA75@1.8 GHz ও 6xA55@1.6 Ghz CPU এবং Mali G57 MP1@850 MHz GPU। কম্পেয়ার করলে মিডিয়াটেকের Helio G81 এর থেকে একটু পিছিয়ে থাকবে এটা, তবে সিমিলার ধরণের। সো, এই বাজেটের জন্য বেশ ভালো- যতক্ষণ না এক্সপেক্টেশন অনেক বেশি রাখছেন।
T7250 প্রসেসর UFS মেমোরি সাপোর্ট করলেও Redmi A5 eMMC 5.1 স্টোরেজ ব্যবহার করছে। অন্যদিকে এর র্যাম টাইপ LPDDR4x।
ফোনটির থিকনেস 8.26 mm। 5200 mAh ব্যাটারির সাথে এখানে 15W এর ফাস্ট চার্জিং সমর্থন রয়েছে। চার্জিংয়ের জন্য টাইপ সি পোর্ট থাকছে। বক্সের মধ্যে চার্জার পেয়ে যাবেন। ফুল চার্জ করতে ২ ঘন্টার মত লাগতে পারে এবং ব্যাকআপ বেশ ভালোই হবে আশা করি।
ক্যামেরার কথা বললে আমি দিনে ও রাতে এতে কিছু ছবি তুলে দেখেছি, যদিও এখন আমার কাছে ছবিগুলো নেই। তো দিনে ও রাতে এর ক্যামেরার ছবিগুলো দেখতে বেশ ভালোই লাগে। শাটার স্পিড ডিসেন্ট ফাস্ট ছিলো। ডিটেইল ছবিতে তত বেশি থাকে না, জুম করলে যেটা বোঝা যায়- বিশেষ করে যখন আলো কম থাকে। তবে সাধারণভাবে চোখে সুন্দর দেখায়, জুম করার আগ পর্যন্ত সেভাবে নয়েজি বা গ্রেইনি লাগে না।
এর একমাত্র স্পিকারটি থাকছে ওপরের দিকে, যার লাউডনেস ও কোয়ালিটি এভারেজ। সেকেন্ডারি নয়েজ ক্যানসেলেশন মাইক নেই। কল কোয়ালিটি ঠিক আছে। 3.5 mm ইয়ারফোন পোর্ট আছে নিচের দিকে। এখানে সাইড মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর থাকছে। ডুয়াল সিম কার্ড স্লটের সাথে ডেডিকেটেড মেমোরি কার্ড স্লট আছে।
এই বাজেটের অনেক ডিভাইসে এখন IP রেটিং দেয়ার চল শুরু হলেও Redmi A5-এ কোন IP রেটিং উল্লেখ করা হয়নি। সেন্সরের মধ্যে প্রক্সিমিটি, লাইট, এক্সেলেরোমিটার ও কম্পাস সেন্সর থাকছে। তবে থাকছে না জাইরোস্কোপ।
সব মিলিয়ে এই ডিভাইসটি ১১ হাজার টাকা বাজেটের জন্য ডিসেন্ট একটি প্যাকেজ। এই বাজেটে মার্কেটে অন্যান্য ব্র্যান্ডও কম্পিটিটিভ স্পেক অফার করছে। পার্সোনালি আমি মনে করি গেমিং বা ফটোগ্রাফি কিংবা কোন প্রোডাক্টিভিটিতে স্মার্টফোন ব্যবহার না করলে বর্তমান সময়ের এরকম বাজেট ফোনগুলো বেশিরভাগ ব্যবহারকারীর জন্য গুড এনাফ।




